জাপানে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা গত বছর রেকর্ড ৩ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছেছে। ইয়েনের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় পর্যটকদের জন্য জাপান ভ্রমণ তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়েছে। এতে আগের বছরের তুলনায় পর্যটক বেড়েছে ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ। সম্প্রতি জাপান ন্যাশনাল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (জেএনটিও) এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
কভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে জাপানে ফ্লাইট স্বাভাবিক হতে শুরু করায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৩ সালে জাপানে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে চীন থেকে আসা পর্যটক ১৮৭ দশমিক ৯ শতাংশ, তাইওয়ান থেকে ৪৩ দশমিক ৮ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাপান ট্যুরিজম এজেন্সির (জেটিএ) কমিশনার নাওয়া হারাইকাওয়া বলেন, ‘আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে ছয় কোটি পর্যটক আকর্ষণ এবং তা থেকে ১৫ লাখ কোটি ইয়েন আয় করার লক্ষ্য নিয়েছি। এ পর্যন্ত আমরা ৮ লাখ কোটি ইয়েন আয় করেছি। স্পষ্টতই আমরা এরই মধ্যে অনেক দূর এগিয়েছি।’
জেটিএ জানিয়েছে, বিদেশী পর্যটক গত বছর মোট ৮ লাখ ১৪ হাজার কোটি ইয়েন খরচ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এটি সম্ভব হয়ে ইয়েনের বিনিময় হার কমার কারণে। পর্যটকদের খরচের বেশির ভাগই ছিল আবাসন, কেনাকাটা, খাবার ও পানীয়র জন্য। চীনা পর্যটকদের খরচের পরিমাণ ২১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি ইয়েনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া তাইওয়ানিজ পর্যটকদের ব্যয় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি ইয়েন হয়েছে।
ট্রাভেল এজেন্সি জেটিবির পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি বছর ৪ কোটি ২ লাখ বিদেশী পর্যটক জাপান ভ্রমণ করতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। জাপানে এ বছর বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে শুরু হতে যাওয়া ওসাকা এক্সপোও রয়েছে। এসব ইভেন্টের কারণে পর্যটক বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।